যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা মাইলেজ নেই। ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকা স্বাভাবিক বিষয়, যা গাড়ি অচল হয়ে যাওয়ার নির্দেশক নয়। নতুন মডেলের ইভিতে ব্যাটারি বিকল হওয়ার হার খুবই নগণ্য। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মডেলে ব্যাটারি পরিবর্তনের হার ১ শতাংশের নিচে ছিল।
স্বাভাবিক ক্ষয় বনাম গুরুতর সমস্যা
সাধারণ জলবায়ুতে ইভি ব্যাটারি ১২ থেকে ১৫ বছর এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় ৮ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত টেকসই হতে পারে। জিওট্যাবের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা প্রতি বছর গড়ে ২.৩ শতাংশ হারে কমতে পারে। তবে তাপমাত্রা, চার্জিংয়ের ধরন এবং গাড়ি ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই ক্ষয়ের হার ভিন্ন হতে পারে। শুধু রেঞ্জ কমে যাওয়া মানেই ব্যাটারি নষ্ট নয়, বরং ঠান্ডা আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ওজনও এর কারণ হতে পারে। একই পরিস্থিতিতে বারবার রেঞ্জ অস্বাভাবিক কমে গেলে ব্যাটারির অবনমন নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
সতর্কতা ও লক্ষণ
গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ব্যাটারি বা হাই-ভোল্টেজ সিস্টেম সম্পর্কিত সতর্কবার্তা এলে তা গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। টেসলাসহ বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ সমস্যা শনাক্তের জন্য বিশেষ অ্যালার্ট সিস্টেম ব্যবহার করে। চার্জিংয়ের গতি ধীর হয়ে যাওয়া বা রেঞ্জ হঠাৎ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো যদি নিয়মিত ঘটে, তবে ব্যাটারিতে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা থাকে।
পেশাদার পরামর্শ ও মেরামত
ব্যাটারির বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত পেলে সরাসরি ব্যাটারি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিজ্ঞ সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ডায়াগনস্টিক টেস্ট করানো উচিত। এতে জানা সম্ভব যে সমস্যাটি ছোট কোনো মেরামতের যোগ্য নাকি পুরো ব্যাটারি প্যাকই বদলাতে হবে। মেরামতের আগে অবশ্যই ওয়ারেন্টি পলিসি যাচাই করতে হবে, কারণ অনেক কোম্পানি ব্যাটারির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টি প্রদান করে। এছাড়া উচ্চ ভোল্টেজের ব্যাটারি নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক, তাই এটি কেবল প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা উচিত।