অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি গান নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সংগীতশিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (অ্যারিয়া)। অ্যারিয়ার প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড জানিয়েছেন, শিল্পের মানবিক সত্তাকে তুলে ধরতেই এই নতুন কোড চালু করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে চলতি সপ্তাহ থেকেই। সংগীতের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শিল্পীদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কেন এই সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় ডিজে জশ ফাওয়াজের তৈরি ম্যাডোনার একটি গানের কভার এআই ব্যবহারের কারণে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। গানটি চার্টে শীর্ষস্থান দখল করলেও পরে এর পেছনে এআই ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই মূলত অ্যারিয়া নড়েচড়ে বসে। সংস্থাটির স্পষ্ট বক্তব্য, তারা এমন কোনো গানের সাফল্য উদযাপন করতে চায় না যা মানবিক সৃজনশীলতা ছাড়া তৈরি হয়েছে।
নতুন নিয়মের আওতা
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চার্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য গানগুলোকে অবশ্যই ‘উল্লেখযোগ্যভাবে মানবসৃষ্ট’ হতে হবে। তবে শিল্পীরা তাদের কাজে সীমিত পরিসরে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, ড্রাম মেশিন, অটো-টিউন বা মাস্টারিংয়ের কাজে এআই ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মূল সুর, গানের কথা এবং প্রধান কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্র অবশ্যই মানুষকে পরিবেশন করতে হবে। গান জমা দেওয়ার সময় শিল্পীদের এআই ব্যবহারের ঘোষণা দিতে হবে। কোনো গানের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়টি গোপন করা হলে অ্যারিয়া চার্টের অবস্থান পরিবর্তনসহ পুরস্কার প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
ভবিষ্যৎ ও বিতর্ক
অ্যারিয়ার এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পিকিং ডুকসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। ব্যান্ড সদস্য অ্যাডাম হাইড মনে করেন, এআই-এর আধিপত্য মানুষের সৃজনশীল অভিজ্ঞতাকে কেড়ে নিচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সংগীতশিল্পীদের এআই থেকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাদের কাজ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা এক ধরনের চুরি। অ্যারিয়ার এই নতুন কোডটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতেও কার্যকর করা হচ্ছে।