জাপানের বাজারে ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া প্যানাসনিক কিউ (Panasonic Q) এখন বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান গেমিং সংগ্রাহক পণ্য হয়ে উঠেছে, যার দাম বর্তমানে ১,০০০ ডলারের নিচে নামছে না। এনগেজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেমকিউব এবং ডিভিডি প্লেয়ারের এই অদ্ভুত সংমিশ্রণটি সে সময় খুব একটা জনপ্রিয়তা না পেলেও বর্তমানে এটি একটি অত্যন্ত দুর্লভ গেমিং কনসোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কনসোলটির প্রেক্ষাপট
প্যানাসনিক এসএল-জিসি ১০ বা প্যানাসনিক কিউ মূলত নিটেনডোর গেমকিউব কনসোল এবং ডিভিডি প্লেয়ারের একটি হাইব্রিড সংস্করণ। সে সময় প্লেস্টেশন-২ এর ডিভিডি প্লেব্যাক সুবিধার সাথে পাল্লা দিতে নিটেনডো এবং প্যানাসনিক যৌথভাবে এটি বাজারে আনে। তবে ডিভাইসটি কেবল জাপানের বাজারে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এর উচ্চ মূল্যের কারণে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি।
ডিজাইন ও কার্যকারিতা
কনসোলটি দেখতে সাধারণ গেমিং ডিভাইসের চেয়ে হোম থিয়েটার যন্ত্রের মতো ছিল। এতে গেম ডিস্ক, ডিভিডি এবং অডিও সিডি চালানোর ব্যবস্থা থাকলেও গেমিং মোড এবং ডিভিডি মোড আলাদাভাবে কাজ করত। ডিভাইসটির অডিও ও ভিডিও কনফিগারেশন নিটেনডোর সাধারণ কনসোলের চেয়ে আলাদা হওয়ায় এর গেমিং পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন ছিল না, তবে ব্যবহারকারীদের ম্যানুয়ালি মোড পরিবর্তন করতে হতো।
কেন এটি এখন দুর্লভ
প্যানাসনিক কিউ এর অদ্ভুত ডিজাইনের কারণে গেমকিউবের অনেক স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকসেসরিজ এতে সরাসরি ব্যবহার করা যেত না। এর জন্য প্যানাসনিককে আলাদাভাবে গেম বয় প্লেয়ার তৈরি করতে হয়েছিল। বাজারের চাহিদা কম থাকা এবং সীমিত উৎপাদনের কারণে আজ এটি গেমিং ইতিহাসের এক বিরল সংগ্রহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইবে (eBay)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এর দাম ১,২০০ থেকে ২,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে দেখা যায়।