যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও কানাডার অটোয়ায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি, ট্রাক ও অটো পার্টসের ওপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যায়। উভয় পক্ষই আলোচনার শেষ মুহূর্তে অযৌক্তিক দাবি তোলার অভিযোগ তুলেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে প্রত্যাশিত হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট কানাডার অটোমোবাইল শিল্প ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঠিক মনোভাব ছাড়া নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে কানাডাও সমপরিমাণ শুল্ক দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং কানাডার বাণিজ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কুইবেকের একটি শিপইয়ার্ডে কানাডিয়ান কোস্ট গার্ডের জন্য ১১ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ে ছয়টি আইসব্রেকার জাহাজ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, কানাডা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে। এ নিয়ে ডগ ফোর্ডকে ‘জোকার’ সম্বোধন করে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কানাডার পরিণতি আরও খারাপ হবে।
ব্যবসায়ীরা এই বাণিজ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক আমদানিকারক বলছেন, রাতারাতি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জানিয়েছে, এই উত্তেজনার ফলে ইউএসএমসিএ (USMCA) বাণিজ্য চুক্তি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা কানাডার অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।