ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসনের মরিয়া চেষ্টার প্রতিফলন?

August 26, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন একগুচ্ছ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিক ডি-ডে হিসেবে অভিহিত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানকে যুদ্ধের ইতি টেনে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযানে ব্যর্থ হয়েই মূলত ট্রাম্প প্রশাসন এই অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে, যা ইরানের নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খুব একটা কার্যকর হবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। যুদ্ধের শুরুতে হোয়াইট হাউস যে দ্রুত বিজয়ের আশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। উল্টো মার্কিন সামরিক মজুত হ্রাস পেয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের জোগান কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজভি জানান, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সামরিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে ট্রাম্পের যে ভুল হিসাব ছিল—যুদ্ধের হুমকি দিলে ইরান নতি স্বীকার করবে—তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দিয়েছে, যা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং খোদ মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রসদ সরবরাহ লাইন হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ করতে হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, চীনের মতো দেশগুলোর বড় ব্যাংকগুলোকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্বীকার করেছেন যে, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংসের ঝুঁকি এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যা সাধারণ ইরানিদের দুর্ভোগ বাড়ালেও তেহরানের সিদ্ধান্তে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।

পরবর্তী পরিস্থিতি

মিডটার্ম নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের সমর্থন করছেন। জর্জিয়া ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, ইরান এখন সময় পার করার কৌশল নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান, যাতে পরবর্তী সময়ে আলোচনার টেবিলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।

Leave a Comment