ইরানে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, আকাশচুম্বী নিত্যপণ্যের দাম

August 26, 2026

ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মুক্ত বাজারে ১ মার্কিন ডলার এখন ২০ লাখ রিয়াল বা তার চেয়ে বেশি মূল্যে লেনদেন হচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে এই নজিরবিহীন দরপতন ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ২০ লাখ রিয়ালে যে পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য কেনা যেত, এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্যে টমেটোর দাম ৭১ শতাংশ, মুরগির মাংসের দাম ৭৪ শতাংশ এবং ভোজ্য তেলের দাম ১৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঔষধের বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইনসুলিনের দাম ৬৪২ শতাংশ, প্যারাসিটামল ৯৩ শতাংশ এবং সরকারি ভর্তুকিযুক্ত শিশুদের দুধের দাম ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন মাসের শেষ পর্যন্ত মৌলিক চাহিদা পূরণ করা নিয়েই চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তেহরানের বাসিন্দা আফসানেহ জানান, তার পরিবারের সাপ্তাহিক মুদি খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে পারতাম, কিন্তু এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বর্তমান আয়ে মাসটি পার করা। এছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টারসহ দৈনন্দিন সেবার খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী জামির জানান, খুচরা বাজারে বিক্রি ৪০ শতাংশ কমে গেছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার পথে। দক্ষিণ উপকূলীয় প্রদেশ হরমুজগঞ্জের বাসিন্দা সালমার ভাষ্যমতে, খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় মাংস ও মুরগির মতো খাবার তাদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হয়েছে। যুদ্ধ এবং সামুদ্রিক অবরোধের ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment