বিষণ্নতায় নতুন নিউরন তৈরির ক্ষমতা হারায় মস্তিষ্ক: গবেষণা

August 26, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি আরভিং মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা বিষণ্নতা এবং মস্তিষ্কের নিউরোজেনেসিস প্রক্রিয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে নতুন নিউরন তৈরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে মস্তিষ্ক নতুন অভিজ্ঞতা এবং পুরোনো কষ্টের স্মৃতির মধ্যে পার্থক্য করতে হিমশিম খায়।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক মউরা ডুপন্ট জানান, বিষণ্নতা কেবল সেরোটোনিনের ঘাটতি নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোর অভিযোজন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিউরোজেনেসিস বা নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার ফলে মানুষ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

গবেষকরা মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অঞ্চলটি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন, যা মানুষের স্মৃতি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। তাদের মতে, হিপোক্যাম্পাসে নতুন নিউরন তৈরি না হওয়ার ফলে মানুষের স্মৃতি এবং আবেগের মধ্যে একধরনের গোলযোগ সৃষ্টি হয়। এতে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে দেখার পরিবর্তে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

প্রায় পাঁচ লাখ মস্তিষ্কের কোষ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে জিনগত পরিবর্তন এবং প্রদাহজনিত প্রভাব রয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো কোষের শক্তি উৎপাদন এবং কোষীয় যোগাযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অধ্যাপক মউরা ডুপন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, ক্যানসারের ক্ষেত্রে যেমন টিউমারের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে বিষণ্নতার ক্ষেত্রেও জিনের ধরন বা অণুজীবীয় বৈশিষ্ট্য দেখে আলাদা আলাদা চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। নেচার মেডিসিন জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Comment