যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশচারীদের সাথে চাঁদে যাওয়া পৃথিবীর কিছু অণুজীব চাঁদের দক্ষিণ মেরুর সুরক্ষিত ও ছায়াময় এলাকায় টিকে থাকতে সক্ষম। ১৯ আগস্ট ২০২৬ সালে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, চরম প্রতিকূল চাঁদের পরিবেশে এসব অণুজীবের টিকে থাকার সক্ষমতা ভবিষ্যতে চন্দ্রপৃষ্ঠের মৌলিক রসায়ন অনুসন্ধানের কাজকে জটিল করে তুলতে পারে।
গবেষক দলের প্রধান গ্রহবিজ্ঞানী প্রবাল সাক্সেনা জানান, মানুষ যখনই কোথাও যায়, তাদের সাথে অণুজীবও পৌঁছায়। এটি যেমন অনিচ্ছাকৃত, তেমনি অনিবার্য। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর গর্ত বা পাহাড়ের আড়ালে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে এই অণুজীবগুলো বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ পেতে পারে। এমন কিছু জায়গা আছে যা দেখতে অনেকটা মানুষের পায়ের ছাপের সমান ক্ষুদ্র।
বিজ্ঞানীদের মতে, কিছু অণুজীব বিশেষ করে অ্যাস্পারজিলাস নাইজার নামক ছত্রাকটি অত্যন্ত সহনশীল। এই ছত্রাকটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিপরীতেও টিকে থাকতে সক্ষম বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই অণুজীবগুলো টিকে থাকলেও চাঁদে তাদের বংশবৃদ্ধির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
চাঁদের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বা প্রাণসম্পর্কিত গবেষণার ক্ষেত্রে এই অণুজীবগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নাসা এখন এমন কৌশল খুঁজছে যাতে মানুষের মাধ্যমে চাঁদে দূষণ না ছড়ায়। বিশেষ করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানে যাওয়ার আগে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।