যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক আইনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অভিশংসন ও ক্ষমতা থেকে অপসারণের প্রকাশ্যে আহ্বান জানানোয় তাকে এই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা করায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ এক আইনি ও পেশাগত ঝুঁকিতে পড়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের সামনে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন মেজর জেসন ওয়াটসন। ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে অপসারণের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওয়াটসনকেই প্রথম সক্রিয় সেনা কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যিনি সরাসরি প্রেসিডেন্টের অপসারণ চেয়েছেন। এরপর সিএনএন-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারেও তিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক ও ব্যর্থ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেন।
আইনি ব্যবস্থা
মেজর ওয়াটসনের আইনজীবী ক্রিস্টোফার মিউটিমার জানিয়েছেন, তার মক্কেলকে ইউনিফর্ম কোড অফ মিলিটারি জাস্টিসের অধীনে তিনটি ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮৮ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার দায়ে অভিযুক্ত করে। এই আইনটি সামরিক বাহিনীতে খুব কমই প্রয়োগ করা হয়।
বর্তমান অবস্থা
মার্কিন বিমান বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, মেজর ওয়াটসনকে ইতিমধ্যে সামরিক হেফাজতে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারের আগ পর্যন্ত তাকে বন্দি রাখা হবে এবং আইন অনুযায়ী তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে, তার আইনজীবী জানিয়েছেন, নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে ওয়াটসন এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এর পরিণতির ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি আগেই অবগত ছিলেন।