যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্টেন ভিউতে অবস্থিত গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স (এএসআই) মূলত ফোনের একটি সিস্টেম কম্পোনেন্ট যা দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন স্মার্ট ফিচার সচল রাখতে কাজ করে। ব্যবহারকারীরা অনেক সময় ফোনের অ্যাপ তালিকায় এই রহস্যময় নাম দেখে বিভ্রান্ত হন এবং এটি বন্ধ করার কথা ভাবেন, তাই এর কার্যকারিতা বোঝা জরুরি।
কিভাবে কাজ করে এএসআই
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স কোনো সাধারণ অ্যাপ নয়, বরং এটি ফোনের পেছনের কারিগর হিসেবে কাজ করে। পিক্সেল ফোনের ক্ষেত্রে এটি লাইভ ক্যাপশন, নাউ প্লেইং, স্মার্ট অটো-রোটেশন, স্মার্ট কপি-পেস্ট এবং নোটিফিকেশন অ্যাকশনের মতো সুবিধাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অ্যান্ড্রয়েডের প্রাইভেট কম্পিউট কোরের মাধ্যমে কাজ করে, ফলে এর মেশিন লার্নিং ফিচারগুলো সরাসরি নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস পায় না। বরং প্রাইভেট কম্পিউট সার্ভিসেসের মাধ্যমে এটি ক্লাউড থেকে আপডেট গ্রহণ করে।
এটি বন্ধ করলে কী হবে
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বন্ধ করলে ফোন অচল হয়ে যাবে না, তবে এটি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনবে। এটি বন্ধ করলে নাউ প্লেইং বা লাইভ ক্যাপশনের মতো কনটেক্সচুয়াল ফিচারগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেবে। গুগল বা প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা জানান, এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কেটে ফেলার মতো নয়, বরং এটি একটি উপযোগিতা বন্ধ করার মতো বিষয়। তাই ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে এটি চালু রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গোপনীয়তা ও সমাধান
এএসআই অ্যাপের কিছু পারমিশন অনেক সময় ব্যবহারকারীদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। তবে গুগল স্পষ্ট করেছে যে, এগুলি স্মার্ট প্রেডিকশন এবং যোগাযোগের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়। যদি সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি করে, তবে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করে ফোন রিস্টার্ট দেওয়া, ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করা বা অ্যাপ আপডেট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। এছাড়া গুগল জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স এবং জেমিনাই মডেল সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, কারণ জেমিনাই এআইকোর সিস্টেম সার্ভিস ব্যবহার করে পরিচালিত হয়।