বার্ধক্য রোধে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

August 27, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা মানুষের বার্ধক্যজনিত প্রদাহ হ্রাসে একটি নতুন পথ উন্মোচনের সম্ভাবনা দেখছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা পরিমিত ডায়েট গ্রহণের ফলে মানবদেহে সি৩ (কমপ্লিমেন্ট কম্পোনেন্ট ৩) নামক একটি রোগ প্রতিরোধক প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী। এই গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক বিশ্বদীপ দীক্ষিত জানিয়েছেন, বার্ধক্য প্রক্রিয়ার এই পরিবর্তনগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

গবেষণাটি নেচার এজিং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ক্যালরি কমানোর ফলে বিভিন্ন প্রাণীর আয়ু বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও, কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া বা প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতির মতো ঝুঁকিগুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালরি গ্রহণ ১০ থেকে ১৪ শতাংশ কমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং এতে প্রজনন বা শারীরিক বৃদ্ধির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

ইয়েল টিমের গবেষকরা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ পরিচালিত ক্যালরি (CALERIE) ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ৪২ জন ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করে ৭ হাজারের বেশি প্রোটিন বিশ্লেষণ করেছেন। তারা লক্ষ্য করেছেন, ক্যালরি কমানোর ফলে সি৩ প্রোটিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। শরীরের চর্বিযুক্ত টিস্যু বা ফ্যাটে ম্যাক্রোফেজ নামক শ্বেত রক্তকণিকা এই প্রোটিন তৈরি করে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রদাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করে সি৩ প্রোটিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেখেন যে, এতে বার্ধক্যজনিত প্রদাহ হ্রাস পেয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই সুবিধাটি ওজন কমার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের একটি অনন্য জৈবিক প্রভাব।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে গবেষক দল এখন এমন ওষুধের সন্ধানে কাজ করছেন যা মানুষের শরীরে সি৩ প্রোটিনের উৎপাদন সীমিত রেখে বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর উদ্দেশ্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা নয়, বরং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বজায় রেখে শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।

Leave a Comment