ভারতে নারী বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ নিয়ে রাজনীতি: ‘সংস্কৃতি সংকট’ নাকি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা?

August 27, 2026

ভারতের দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ৩৫ দিনব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে তরুণীদের মুখে আপত্তিকর শব্দ বা গালিগালাজের ঘটনায় দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণীদের এই আচরণকে ‘সংস্কৃতি সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পর বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজের বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নারীর সক্রিয়তা ও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে যখন শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সিজেপি-র বিক্ষোভে কয়েকজন তরুণী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং অনেক তরুণীকে ট্রলিং ও ধর্ষণের হুমকির শিকার হতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, কিছু তরুণী অসভ্য গালিগালাজ করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি একে ‘সংস্কৃতি সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন বা নারীদের হুমকির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পুনেতে শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ছেলেরা গালি দিলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু মেয়েরা দিলে তা সংস্কৃতি সংকট হয়ে যায়। তিনি একে প্রধানমন্ত্রীর পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন বলে দাবি করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে অনেক ক্ষেত্রে নারীর প্রতি দ্বিমুখী আচরণ করা হয়। সমাজবিজ্ঞানী শিব বিশ্বনাথনের মতে, সংসদ বা আদালতেও যখন গালিগালাজ শোনা যায়, তা গণতান্ত্রিক আলোচনার অবক্ষয়ের লক্ষণ। অন্যদিকে, গালিগালাজ বিরোধী প্রচারাভিযান চালানো সুনীল জালান মনে করেন, গালির ব্যবহার একটি সামাজিক সমস্যা এবং এটি লিঙ্গভেদে বিচার করা উচিত নয়।

যদিও প্রতিবাদে ব্যবহৃত ভাষার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে, তবুও তরুণ প্রজন্মের অনেক প্রতিবাদকারী মনে করেন, বিক্ষোভের ক্ষেত্রে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এটি একটি কৌশল মাত্র।

Leave a Comment