যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা তাদের এআই-কেন্দ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর যে লক্ষ্য কোম্পানিটি নির্ধারণ করেছিল, তা প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্জিত না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার প্রেক্ষাপট
প্রকল্পটি ‘প্রজেক্ট ওটি’ (অর্গানাইজেশন ট্রান্সফরমেশন) নামে পরিচিত ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাওয়াইয়ে আয়োজিত এক বার্ষিক সম্মেলনে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়েছিলেন। এর আওতায় এআই এজেন্ট ব্যবহার করে কর্মীদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআই-চালিত ছোট ছোট দল বা ‘পড’-এর মাধ্যমে কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল এবং মধ্যম সারির ব্যবস্থাপনার স্তর কমিয়ে আনা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মী কমানোর চিন্তা-ভাবনাও ছিল।
কেন পরিকল্পনাটি কাজ করেনি
মেটার অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির এআই সফটওয়্যারে কোড পরিবর্তন ২২০ শতাংশ বাড়লেও ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফিচারের হার মাত্র ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। উল্টো প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং এসব সমাধানে কর্মীদের সময়ের ব্যয় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুলাই মাসে এক টাউন হল মিটিংয়ে সিইও মার্ক জাকারবার্গ স্বীকার করেন যে, এআই প্রযুক্তির উন্নতির গতি তিনি যতটা ভেবেছিলেন, বাস্তবে তা ততটা দ্রুত হয়নি। এছাড়া কর্মীদের মাউস ও কিবোর্ড ট্র্যাক করার মতো কঠোর নজরদারি পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যার ফলে কর্মীদের মনোবল ১৯ পয়েন্ট কমে যায় এবং শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
যদিও বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, তবুও মেটা পুরোপুরি এআই-এর পথ থেকে সরে আসেনি। জাকারবার্গ জানিয়েছেন, এ বছর কোম্পানিজুড়ে বড় কোনো ছাঁটাই হবে না। তবে বিনিয়োগকারীরা এআই খাতে কোম্পানির বিশাল বিনিয়োগের দৃশ্যমান ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা আগামী দিনগুলোতে জাকারবার্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।