শিশুদের মায়োপিয়া রোধে ইনডোর লাইটে ইনডিগো আলোর ব্যবহার কার্যকর

August 27, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি চিলড্রেনস হসপিটাল মেডিকেল সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামের গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘরের ভেতরের সাধারণ কৃত্রিম আলোতে ইনডিগো আলোর ঘাটতি শিশুদের ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেল রিপোর্টস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি মায়োপিয়া প্রতিরোধে আলোকসজ্জার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

গবেষক দলের প্রধান এবং সিনসিনাটি চিলড্রেনস হসপিটালের অপথালমোলজি বিভাগের পরিচালক ড. রিচার্ড ল্যাং জানান, মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের আলোতে ইনডিগো আলোর উপস্থিতি প্রচুর থাকলেও সাধারণ সাদা এলইডি আলোতে তা অনুপস্থিত। বিজ্ঞানীরা ট্রি শ্রু (এক ধরনের ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী) নামক প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, তাদের চোখের গঠন মানুষের সঙ্গে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনডিগো আলোর সংস্পর্শে থাকা প্রাণীদের ক্ষেত্রে মায়োপিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

মায়োপিয়া কেন হয়?
মানুষের চোখ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা হয়ে যায়, তখন আলোর প্রতিসরণ রেটিনার ওপর না পড়ে তার সামনে পড়ে। এর ফলে দূরের বস্তু ঝাপসা দেখায়। এই সমস্যা সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত চলতে থাকে। চশমা বা কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমে এর সমাধান করা গেলেও, গুরুতর মায়োপিয়া থেকে রেটিনাল ডিটাচমেন্ট বা গ্লুকোমার মতো স্থায়ী চোখের ক্ষতি হতে পারে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমানের ইনডোর লাইটিং সিস্টেমকে সূর্যের আলোর বর্ণালীর আদলে পুনরায় ডিজাইন করলে শিশুদের মায়োপিয়া ঝুঁকি কমানো সম্ভব। গবেষণার পরবর্তী পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে উন্নত আলোক ব্যবস্থা স্থাপন করে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এটি সফল হয়, তবে শিশুদের মায়োপিয়া ঝুঁকি কমাতে ইনডিগো সমৃদ্ধ আলোক ব্যবস্থা একটি নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment