যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে কেনেডি সেন্টার সংস্কারে আদালতের বাধা থাকলে ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতে জমা দেওয়া নথিপত্রে সরকারের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সংস্কার পরিকল্পনা আটকে গেলে এই পারফর্মিং আর্ট ভেন্যুটি অনিরাপদ ও জরাজীর্ণ কাঠামোয় পরিণত হবে, যা পরে অপসারণ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, আদালতের আদেশে ভবন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলায় দাতা ও আর্থিক অনুদান আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ভবনটিতে পুনরায় প্রেসিডেন্টের নাম যুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলছেন, এই বাধা বহাল থাকলে কাঠামোগত উন্নয়নের কাজ স্থবির হয়ে পড়বে।
কেন এই হুমকি
ট্রাম্পের আইনজীবীদের মতে, সংস্কার না হলে ভবনটি জাতীয় রাজধানীর জন্য বিব্রতকর একটি জরাজীর্ণ স্থাপনায় পরিণত হবে। ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলে সেখানে পোটেম্যাক নদীর দিকে মুখ করা একটি বড় আউটডোর অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিচার বিভাগের আইনজীবী ব্র্যান্টলি মায়ার্স।
আইনি প্রেক্ষাপট
এর আগে মে মাসের শেষের দিকে এক মার্কিন বিচারক রায় দেন যে, কংগ্রেশনাল অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নামকরণের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সেই নির্দেশে জুন মাসে ভবন থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ট্রাম্প সমর্থক বোর্ড সদস্যরা সম্প্রতি পুনরায় ভবনটির গায়ে প্রেসিডেন্টের নাম যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের অন্যান্য প্রকল্প
২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনায় সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল মলের রিফলেক্টিং পুল সংস্কার, একটি ২৫০ ফুট উঁচু ভিক্টরি আর্চ নির্মাণ এবং হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে বলরুম তৈরির মতো প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া কেনেডি সেন্টার ও ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজের নাম যুক্ত করেছেন।