যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের সমঝোতা চুক্তি করেছে মেটা, যা ইউটিউব, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিযোগীদের নতুন করে ভাবনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কঠোর বয়স যাচাইকরণ, নোটিফিকেশন সীমিতকরণ এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিতে মেটাকে বাধ্য করেছে এই চুক্তি। এই সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেটার জরিমানার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৫.৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বিষয়টি নির্ভর করছে টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করবে কি না তার ওপর।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মেটা বর্তমানে কিশোরদের জন্য দৈনিক দুই ঘণ্টার স্ক্রিন টাইম এবং রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেল ফোল উইজার জানিয়েছেন, যদি স্ন্যাপ, টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করে, তবে দৈনিক ব্যবহারের সীমা কমিয়ে ৬০ মিনিট করা হবে এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ থাকবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেটার এই কৌশলটি পুরো সোশ্যাল মিডিয়া শিল্পের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ল সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক নিকোলাস গুগেনবার্জারের মতে, এটি নজিরবিহীন একটি কৌশল যা অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মেটার স্বার্থকে একীভূত করে ফেলেছে। এর ফলে অন্য কোম্পানিগুলো এখন ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে।
যদিও ইউটিউব, টিকটক ও স্ন্যাপ সরাসরি এই মামলার অংশ ছিল না, তবে মেটার এই সমঝোতা তাদের জন্য নতুন আইনি ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক জেমস গ্রিমেলম্যান মনে করেন, এই ফলাফলের পর কোম্পানিগুলো নিজেদের আরও বেশি অরক্ষিত মনে করছে। সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং মামলার সফলতার এই প্রবণতা কোম্পানিগুলোকে নতুন আইনি লড়াইয়ের পথে ঠেলে দিতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সমঝোতা শুধুমাত্র শুরু। তাদের লক্ষ্য হলো পুরো শিল্পে একটি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা। তিনি সরাসরি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করতে হবে এবং রাষ্ট্রপক্ষ একই ধরনের ফলাফল প্রত্যাশা করছে।