যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে মেটার নতুন কড়াকড়িকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে তেমন কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করছেন অভিভাবক এলিজাবেথ গার্ডনার। শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় মেটা যে নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে, তা নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। এলিজাবেথের মতে, এই পদক্ষেপগুলো বাড়িতে কিছুটা তর্ক কমাতে সাহায্য করলেও মূল সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়ের করা ১৮ বিলিয়ন ডলারের মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে মেটা এই নতুন বিধিনিষেধগুলো এনেছে। এর আওতায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে দৈনিক দুই ঘণ্টার সময়সীমা, লাইক সংখ্যা লুকিয়ে রাখা, ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া বন্ধ করা, স্কুল চলাকালীন পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ এবং ক্ষতিকর ফিল্টার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং স্বতন্ত্র অডিটর নিয়োগের ব্যবস্থাও থাকছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অভিভাবক ও কিশোর-কিশোরী বিষয়টিকে পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়ার মতো বলে মনে করছেন না। এলিজাবেথের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে পেইজ জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নতির ফলে মানুষ খুব দ্রুতই বিকল্প উপায় খুঁজে বের করবে এবং ভুয়া কনটেন্ট তৈরির নতুন পথ বের করে ফেলবে। তাই এই সীমাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে তার ধারণা।
ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের বাসিন্দা আন্দ্রিয়া রোজের মতে, মেটার এই পদক্ষেপ ড্রাগ নিয়ন্ত্রণের মতো, কিন্তু মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো নয়। তিনি মনে করেন, মেটার এই অর্থ প্রদান যেন বড় কোনো সমস্যার বিপরীতে খুব সামান্য অনুদান দেওয়া। লং আইল্যান্ডের আরেক মা জোনির স্টোরি মেটার কিছু শর্তকে ‘ছোটমনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ মেটা জানিয়েছে, যদি ইউটিউব বা টিকটকের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মগুলো একই ধরনের চুক্তিতে না আসে, তবে তারা ৫ বিলিয়ন ডলার আটকে রাখবে।
শিকাগোর বাসিন্দা মার্ক সুহু মনে করেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য ক্ষতিকর এবং কোম্পানিগুলোর ওপর ভরসা না করে অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি ‘ওয়েট আনটিল এইটথ’ নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যারা শিশুদের অষ্টম শ্রেণি শেষ হওয়ার আগে স্মার্টফোন না দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালায়। সুহুর মতে, সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে হলে অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ।