নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শুভশ্রী চক্রবর্তী ও রীনা ব্যানার্জি নামে দুই নারীও রয়েছেন। শুভশ্রীর স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত বুধবার নেপাল সীমান্ত দিয়ে তিব্বতে প্রবেশের জন্য ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর থেকেই তার স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শুভশ্রী চক্রবর্তী পেশায় একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। কৈলাশ যাত্রা ছিল তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। বুধবার সকাল ৮টা ৩ মিনিটে তিনি তার স্বামীকে শেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, তারা চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় আছেন। এরপরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
একইভাবে নিখোঁজ রয়েছেন বেসরকারি গৃহশিক্ষক রীনা ব্যানার্জি। তিনিও একই তীর্থযাত্রী দলের সদস্য ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নেপাল ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর থেকেই তার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। রীনা তার আত্মীয়দের কাছে যাত্রাপথের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু আকস্মিক বন্যার পর থেকে তিনি পুরোপুরি নিখোঁজ।
ঘটনার পটভূমি
নিখোঁজ তীর্থযাত্রীরা মাউন্ট কৈলাশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে তিব্বত সীমান্তের দিকে রওনা হয়েছিলেন। যাত্রাপথে তারা পাহাড়ধসের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও এরপর আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল। শুভশ্রী ও রীনা দুজনেই নেপাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তিব্বত সীমান্তের গিরংয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল সরকারের তালিকা অনুযায়ী ৫৩৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যার মধ্যে ২৯০ জনই ভারতীয় নাগরিক। পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের উদ্ধার বা তালিকা প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত চীনের তরফ থেকে তীর্থযাত্রীদের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।