যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শাওমি, অপো এবং ভিভোর মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নেই। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্মার্টফোন শিপমেন্টে এই তিনটি কোম্পানি তালিকার তিন, চার এবং পাঁচ নম্বরে থাকলেও আমেরিকান ক্রেতারা কেবল অ্যাপল, স্যামসাং বা গুগল পিক্সেলের মতো গুটি কয়েক ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল।
কেন যুক্তরাষ্ট্রে এসব ব্র্যান্ড নেই
শাওমি, অপো এবং ভিভোর মতো কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ নয়। তবুও তারা সেখানে ব্যবসা করে না কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম অপারেটরদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া তাদের ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং উচ্চ শুল্ক বা বিধিনিষেধের ঝুঁকি এড়াতেও কোম্পানিগুলো দেশটির বাজার থেকে দূরে থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোন বিক্রির জন্য স্থানীয় টেলিকম ক্যারিয়ারগুলোর সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির জটিল চুক্তিতে যেতে হয়, যা অনেক কোম্পানির জন্য লাভজনক নয়।
গ্রাহকরা কী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন
বিশ্বের অন্যান্য দেশের গ্রাহকরা যেসব স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, তাতে ক্যামেরা প্রযুক্তি, দ্রুতগতির চার্জিং সুবিধা এবং শক্তিশালী হার্ডওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রচলিত ফোনগুলোর চেয়ে উন্নত। যেমন শাওমির ১৭ আল্ট্রা মডেলে ২০০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স এবং ৯০ ওয়াট চার্জিং সুবিধা রয়েছে। একইভাবে অপো ফাইন্ড এক্স৯ আল্ট্রায় পেন্টা ক্যামেরা সিস্টেম এবং ১০০ ওয়াট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভিভোর এক্স৩০০ আল্ট্রা এবং অনার ম্যাজিক ৮ প্রো-এর মতো ফোনগুলোতেও ক্যামেরা ও ডিসপ্লের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সব ফিচার রয়েছে, যা আমেরিকানদের জন্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গ্রাহক আমাজন বা বিভিন্ন আমদানিকারকের মাধ্যমে এসব ব্র্যান্ডের ফোন কিনলেও তারা নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম অপারেটরগুলোর এলটিই ও ফাইভ-জি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের সঙ্গে এসব ফোনের সামঞ্জস্য না থাকায় নেটওয়ার্ক বিভ্রাট ঘটে। এছাড়া অনেক সময় ভিওএলটিই (VoLTE) বা ওয়াই-ফাই কলিংয়ের মতো ফিচারগুলো কাজ করে না। বিশেষ করে চীনা সংস্করণের ফোনগুলোতে গুগল প্লে সার্ভিস না থাকার কারণে গ্রাহকরা চরম অসুবিধায় পড়েন। যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন টেলিকম নীতিমালা বা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।