ইউক্রেনের কিয়েভ শহরের উপকণ্ঠে একটি অস্ত্রাগারে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করে একে চরম অবহেলা বলে অভিহিত করেছেন। বসতি এলাকার পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গোলাবারুদ সংরক্ষণের কারণেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কিয়েভের বুচা জেলায় মাইলা নামক একটি গ্রামে। হামলার পর সেখানে থাকা শেল, মাইন এবং ড্রোন বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশের একটি বৃদ্ধাশ্রম ও প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বেশ কিছু আবাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় আহত ৪২ জনের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, আবাসিক এলাকার পাশে গোলাবারুদ রাখা ছিল সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনার পেছনে কার অবহেলা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাইলা গ্রামে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ ও রকেট লঞ্চার রাখা একটি অস্ত্রাগারে তারা এই হামলা চালিয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে বিশনেভে এলাকায় একই ধরনের বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভের আশপাশে অস্ত্রাগারে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।
এদিকে কিয়েভ শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, ওবোলনস্কি জেলায় ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুই বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছে। এছাড়া বোরিসপিল জেলায় পৃথক হামলায় আরও এক কিশোর নিহত হয়েছে। একই সময়ে ওডেসা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, সুমি ও জাপোরিঝিয়ায়ও হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ২৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ায় স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে।