আইসল্যান্ডের রেকিয়াভিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যোগদানের বিষয়ে আলোচনার পুনসূচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাররা তাদের রায় দিচ্ছেন। ১৩ বছর আগে এই আলোচনা স্থগিত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তিরের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী সরকার এই গণভোটের আয়োজন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং মৎস্য শিল্পের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলবে।
ভোটারদের ব্যালট পেপারে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, আইসল্যান্ডের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করা উচিত? এই নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত অনিশ্চিত। সর্বশেষ জনমত জরিপে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যদিও এর আগের জরিপগুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পাল্লা ভারী ছিল।
মূল বিতর্ক
গণভোটের এই বিতর্কে জাতীয় নিরাপত্তা বা ন্যাটোর চেয়ে মৎস্য শিল্প এবং সার্বভৌমত্ব বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আইসল্যান্ডের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মৎস্য ও সামুদ্রিক শিল্প থেকে। ‘না’ শিবিরের আশঙ্কা, ইইউতে যোগ দিলে তাদের মৎস্য সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ব্রাসেলসের হাতে। অন্যদিকে, ‘হ্যাঁ’ শিবির মনে করে, ইইউতে যোগ দিলে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তির যুক্তি দিয়েছেন যে, আলোচনার মানেই সদস্যপদ গ্রহণ নয়, বরং একটি সুযোগ। তিনি এটিকে ঝুঁকি কমানোর অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে বিরোধী দল এর কঠোর বিরোধিতা করেছে। তারা মনে করে, এটি আইসল্যান্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেবে।
পরবর্তী ধাপ
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রবিবার ভোরেই চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে তার মানে এই নয় যে আইসল্যান্ড দ্রুত ইইউতে যোগ দেবে। এটি কেবল আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তা আবার দ্বিতীয় গণভোট এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হতে হবে।