জার্মানির বার্লিনে সাইবার হামলার মাধ্যমে শহরটির সরকারি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ এবং তথ্য চুরির ঘটনায় হ্যাকারদের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্লিনের মেয়র কাই ওয়েগনার। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে কারণ এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ৭ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে প্রথমবার তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে বাসিন্দারা আবাসন সুবিধা ও আর্থিক সহায়তার আবেদন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে পরিবহন ও পরিবেশ বিষয়ক দপ্তরের সিস্টেমেও অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ব্যক্তিগত এবং অপ্রকাশযোগ্য তথ্য থাকতে পারে।
কারা এই হামলার পেছনে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিজিডা (Rhysida) নামক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই গোষ্ঠীটি রাশিয়া বা পূর্ব ইউরোপ থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর আগে তারা ব্রিটিশ মিউজিয়ামেও সাইবার হামলা চালিয়েছিল। হ্যাকাররা ৩০টি বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ইউরো বা ১৭ লাখ পাউন্ড। তারা হুমকি দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে চুরি করা ৫.৭৯ টেরাবাইট ডেটা নিলামে তোলা হবে।
প্রশাসনের অবস্থান
মেয়র কাই ওয়েগনার শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বার্লিন কোনোভাবেই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হবে না। তিনি জানান, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, প্রসিকিউটর এবং ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। এছাড়া চুরি হওয়া তথ্যের ধরণ ও পরিধি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
নির্বাচনের ওপর প্রভাব
আগামী মাসে বার্লিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাজ্য সিনেটর আইরিস স্প্র্যাঙ্গার নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের অবকাঠামো এই সাইবার হামলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। রিজিডা গোষ্ঠী ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শত শত হামলা চালিয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।