যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে টুইটারের সাবেক আইনি পরামর্শদাতা স্টিফেন কোটস এবং তার দল ‘টুইটার ডট নাও’ (Twitter.now) নামে একটি নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু করেছেন। ট্রেডমার্ক অধিকার নিয়ে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স-এর সাথে আইনি লড়াই চলমান থাকা সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, নতুন এই উদ্যোগটি সোশ্যাল মিডিয়ার বর্তমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নিজেদের দাবি করছে।
অপারেশন ব্লুবোর্ড নামক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এই প্ল্যাটফর্মটি আনা হয়েছে। এর লোগো এবং নীল রঙ অনেকটা আগের টুইটারের মতোই। স্টিফেন কোটস জানিয়েছেন, ইলন মাস্ক টুইটারের নাম ও লোগো বদলে ‘এক্স’ করায় পুরনো ব্র্যান্ড পরিচয়টি পরিত্যক্ত হয়েছে, যা তাদের এই নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর আইনি ভিত্তি দিয়েছে।
মামলা ও আইনি অবস্থান
ইলন মাস্ক এবং এক্স কর্পোরেশন এই নতুন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তবে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কলাম কনোলি এপ্রিলে দেওয়া এক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিলেন যে, এক্স যে টুইট বা পাখির লোগো ব্যবহার করছে তার সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ দিতে পারেনি। বিচারকের এই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার পরই অপারেশন ব্লুবোর্ড তাদের কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
প্ল্যাটফর্মের বৈশিষ্ট্য ও নতুনত্ব
নতুন এই টুইটার দাবি করেছে যে তারা কোনোভাবেই এক্স-এর সাথে যুক্ত নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যমান অ্যালগরিদম ও বটের দৌরাত্ম্য রুখতে তারা ‘ভেরা’ (Vera) নামক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহার করছে। এর উদ্দেশ্য হলো পোস্টের সত্যতা যাচাই করা, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই টুলটি নিয়ে কিছু কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যবহার ও খরচ
আপাতত এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হলে ব্যবহারকারীকে এককালীন ২০ ডলার প্রদান করতে হবে। প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বট নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতেই এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।