যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মোবাইল গ্রাহক যারা এটিঅ্যান্ডটি (AT&T), টি-মোবাইল বা ভেরাইজনের মতো বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের (MNO) সেবা নিচ্ছেন, তারা মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর বা এমভিএনও (MVNO) ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ অনেকাংশে কমাতে পারেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন স্টেগনারের মতে, বড় কোম্পানিগুলো তাদের খরচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু যুক্ত করে, যা এমভিএনও ব্যবহারের মাধ্যমে এড়িয়ে চলা সম্ভব।
এমভিএনও কী
বড় মোবাইল অপারেটররা টাওয়ার ও রেডিও এক্সেস নেটওয়ার্কের মতো নিজস্ব অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, এমভিএনওগুলো এই বড় অপারেটরদের কাছ থেকে নেটওয়ার্ক সুবিধা লিজ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা বিক্রি করে। মিন্ট মোবাইল বা ইউএস মোবাইলের মতো কোম্পানিগুলো মূলত এই মডেলে কাজ করে। বড় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হলেও তারা অনেক কম খরচে প্রি-পেইড পরিকল্পনা অফার করে।
বিভিন্ন বিকল্প ও সুবিধা
বাজারে থাকা মিন্ট মোবাইল, ভিজিবল, ইউএস মোবাইল এবং গুগল ফাই ওয়্যারলেসের মতো এমভিএনওগুলো বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ অফার করে। কেউ যদি সাশ্রয়ী মূল্যে ডাটা ও কলিং সুবিধা চায়, তবে তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই অপারেটররা নমনীয় প্যাকেজ প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, মিন্ট মোবাইলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় খরচ অনেক কম হয়, আবার গুগল ফাই বিদেশ ভ্রমণের সময় বেশ কার্যকর।
স্থানান্তর প্রক্রিয়া
নতুন সেবায় যুক্ত হওয়া বেশ সহজ। বেশিরভাগ এমভিএনও সাইটে বর্তমান ফোনের সক্ষমতা এবং এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ যাচাই করার সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে ই-সিম (eSIM) প্রযুক্তির কারণে খুব দ্রুত নতুন নেটওয়ার্কে সংযোগ পাওয়া সম্ভব। তবে বড় অপারেটরের অধীনে থাকা কোনো ফোন কিস্তিতে কেনা থাকলে, তা আগে পরিশোধ করে আনলক করে নিতে হয়।
কেন এটি সাশ্রয়ী
এমভিএনওগুলোর কোনো ফিজিক্যাল স্টোর নেই এবং তারা অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন বা বান্ডেল সার্ভিস দেয় না, যার ফলে গ্রাহককে কম খরচ করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করলে, বড় অপারেটরের দেওয়া ফ্রি ফোনের লোভে না পড়ে সরাসরি ফোন কিনে সাশ্রয়ী প্যাকেজ ব্যবহার করা অনেক বেশি লাভজনক। গ্রাহকদের নিজেদের ডাটা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে এমভিএনও বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।