দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের এনকুথু গ্রামে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অনলাইন বিদ্বেষের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে সম্প্রীতির এক ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ১০৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ জেওলিবি জ্যাক এনগুবানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ইসলামি রীতিতে দাফন করা হয়, যা ওই এলাকায় কোনো বিতর্ক ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। যদিও বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিবাসন এবং মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা বাড়তে দেখা যাচ্ছে, তবে স্থানীয় অধিবাসীরা একে বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করেন না।
এনকুথু এলাকার বাসিন্দা সামুকেলিসিওয়ে এনগুবানে জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের এলাকায় কোনো বিদ্বেষ নেই। সেখানকার একজন মুসলিম তরুণ খেথুকুথুলা দ্লামে জানান, তার পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রতিবেশীরা কোনো শত্রুতা পোষণ করে না, বরং একে পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে। স্থানীয়দের মতে, অনলাইন বা বড় শহরগুলোতে যে বিদ্বেষের কথা শোনা যাচ্ছে, তার সাথে গ্রামীণ জনজীবনের কোনো মিল নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক থেম্বিসা ফাকুদে মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় সুসংগঠিত কোনো ইসলামফোবিয়া নেই। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপপ্রচারকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সামগ্রিক চিত্র হিসেবে দেখতে নারাজ। তবে ধর্মীয় নেতা মাওলানা সুলাইমান রাভাতের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষাক্ত প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে না দেখে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ মুসলমান, যারা কয়েক শতাব্দী ধরে দেশটির ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন অ্যালগরিদম ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার এই দূরত্ব বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা দেশটির আগামী দিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।