প্রযুক্তির জগতে ডিসপ্লে রেজোলিউশন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। ফোর-কে (4K), সেভেন-টুয়েন্টি-পি (720p) কিংবা ফুল এইচডি (Full HD)—এই শব্দগুলো নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায়ই ধোঁয়াশা তৈরি হয়। মার্কেটিংয়ের মারপ্যাঁচ এবং শিল্পের ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এই পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ৪-কে (4K) নামটি কেবল বিপণনের জন্য তৈরি করা কোনো শব্দ নয়, এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ভিত্তি।
৪-কে নামের উৎপত্তি
৪-কে টার্মটির জন্ম টেলিভিশনের জন্য নয়, বরং প্রেক্ষাগৃহে ব্যবহৃত ডিজিটাল সিনেমার মানদণ্ড হিসেবে। ২০০৫ সালে এমজিএম, প্যারামাউন্ট, ইউনিভার্সাল এবং সনির মতো বড় স্টুডিওগুলো ‘ডিজিটাল সিনেমা ইনিশিয়েটিভস’ (DCI) গঠন করে। তারা ২-কে (২,০৪৮ x ১,০৮০ পিক্সেল) এবং ৪-কে (৪,০৯৬ x ২,১৬০ পিক্সেল) রেজোলিউশন নির্ধারণ করে। সিনেমার পর্দার প্রস্থের পরিমাপ প্রায় ৪,০০০ পিক্সেল হওয়ায় এটি ৪-কে নামে পরিচিতি পায়। তবে সাধারণ ঘরের টিভির ৪-কে রেজোলিউশন কিছুটা ভিন্ন, যা ৩,৮৪০ x ২,১৬০ পিক্সেল। মূলত ১০৮০পি রেজোলিউশনের চার গুণ বড় হওয়ায় একে ৪-কে বলা হয়।
ডিসপ্লে সংক্রান্ত বিভ্রান্তি
বাজারে আল্ট্রা এইচডি (UHD) নামেও পরিচিতি পায় ৪-কে। এইচডি এবং ফুল এইচডি শব্দগুলো রেজোলিউশনের মানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একইভাবে ২১৬০পি (2160p) নামটি এসেছে উল্লম্ব পিক্সেলের সংখ্যা থেকে, তবে মার্কেটিংয়ের ভাষায় ‘৪-কে’ অধিক জনপ্রিয়। এর বাইরে রয়েছে কিউ-এইচডি (QHD), যা ২,৫৬০ x ১,৪৪০ পিক্সেল, যা গেমিং মনিটরে বেশ কার্যকর।
বাস্তবতা ও ৮-কে এর ভবিষ্যৎ
বাজারে ৪-কে টিভি সহজলভ্য হলেও সব কন্টেন্ট এই রেজোলিউশনে দেখা যায় না। অনেক স্ট্রিমিং সার্ভিস ৪-কে কন্টেন্টের জন্য বাড়তি চার্জ নেয়। এছাড়া আপস্কেলিং প্রযুক্তির মাধ্যমেও নিম্নমানের ভিডিওকে ৪-কে পর্দায় দেখানো হয়, যা আসল ৪-কে রেজোলিউশনের মতো ততটা স্বচ্ছ নয়। অদূর ভবিষ্যতে ৮-কে প্রযুক্তির ব্যাপকতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। মানুষের চোখ যে হারে পিক্সেল ধারণ করতে পারে, তার চেয়েও বেশি ঘনত্বের ৮-কে ডিসপ্লে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।