হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাট ব্যবহার করে শত কোটি ইউরো পাচার: নেপথ্যে অপরাধী ও জঙ্গি চক্র

August 30, 2026

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত কোটি ইউরো পাচার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং চরমপন্থার অর্থায়নে ব্যবহৃত হতো। বেলজিয়ামের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট ভিনসেন্ট গুয়েরার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়নের (ইবিইউ) তদন্তকারী সাংবাদিকরা। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো ব্যাংকিং ট্রেইল বা রেকর্ড ছাড়াই গোপন এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও মানব পাচারের মতো অপরাধের অর্থ লেনদেন করা হতো।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ‘ট্রেডার্স অফ গ্রেটার ইউরোপ’ নামের ৫৩২ সদস্যের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে অন্তত ৮২ হাজার বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছিল। এই গ্রুপের সদস্যরা আরবির মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রাচীন হাওলা পদ্ধতির সহায়তায় অর্থ স্থানান্তর করতেন। এর মাধ্যমে বেলজিয়াম থেকে সিরিয়ায় আইএসের জঙ্গিদের কাছে অর্থ পাঠানোর প্রমাণও মিলেছে। এছাড়াও ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হতো।

হাওলা পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক কোনো নথি বা ব্যাংক নোটের শারীরিক স্থানান্তর ছাড়াই বিশ্বব্যাপী টাকা পাঠানো সম্ভব হয়। অপরাধীরা ব্যাংকগুলোর সন্দেহজনক লেনদেনের নজরদারি এড়াতে এই পথ বেছে নেয়। তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট ভিনসেন্ট গুয়েরা জানান, এই নেটওয়ার্কের লেনদেনের ব্যাপ্তি ছিল পুরো পৃথিবী জুড়ে। ব্রাসেলসের এক ব্যক্তির ফোনের তথ্যে ১২ হাজার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে, যা পেশাদার ব্যাংকিং ব্যবস্থার মতোই নিখুঁত।

শুধু বেলজিয়াম নয়, অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও হাওলা পদ্ধতি ব্যবহার করে মানব পাচার এবং মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। ভিয়েনার একটি কাবাব দোকানের আড়ালে চলা এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অস্ট্রিয়ার পুলিশ। সেখানে মানব পাচারের পাশাপাশি পাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকেও হাওলা পদ্ধতির মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।

ইউরোপোল এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অর্থ পাচারের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হাওলা পদ্ধতি। অপরাধীরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

Leave a Comment