ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিল যুক্তরাষ্ট্র

August 30, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুতের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সাথে এই চুক্তি হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র এই চুক্তির আওতায় থাকবে এবং মার্কিন সরকার কোনো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই তেল উত্তোলন করবে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।

চুক্তির বিস্তারিত ও প্রভাব

চুক্তির আওতায় থাকা ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ভেনেজুয়েলার মোট তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণ হবে, যা ১৯৮২ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা মার্কিন জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ না করায় অনেক বিশ্লেষক এই বিশাল পরিমাণ তেলের হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। রোরি জনস্টন নামক এক তেল বাজার গবেষক একে একটি বড় ধরনের প্রচার বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি

২০২৬ সালের শুরু থেকে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও কারাবন্দি করার অভিযান পরিচালনা করে। এরপর ট্রাম্প মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে সমর্থন দেন। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমোজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্যাসোলিনের উচ্চমূল্য কমিয়ে আনাই এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেলসি রদ্রিগেজ এই চুক্তিকে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ঐতিহাসিক বলে দাবি করেছেন।

সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক আইন

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সেই দেশেরই স্থায়ী সার্বভৌমত্ব থাকার কথা। সমালোচকরা মনে করছেন, মার্কিন এই পদক্ষেপ ঔপনিবেশিক আমলের নীতির প্রতিফলন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন, মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করে প্রয়োজনে অন্যান্য দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করা উচিত। এছাড়া ইরানসহ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি।

Leave a Comment