যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই আইকান স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা স্নায়ুর ক্ষত নিরাময়ে বাধা প্রদানকারী একটি আণবিক মেকানিজম বা ‘ব্রেক’-এর সন্ধান পেয়েছেন। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, শরীরের কোনো স্নায়ু বা মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দ্রুত সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এই প্রোটিনটির নাম অ্যারাইল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর বা এএইচআর (AHR)।
গবেষকদের মতে, স্নায়ু কোষ বা নিউরনের দীর্ঘ অংশগুলোকে অ্যাক্সন বলা হয়, যা শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে সংকেত পাঠায়। এই অ্যাক্সন ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে এই কোষগুলোর পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা সীমিত থাকে। মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষণার প্রধান লেখক ড. হংয়ান জো জানান, আঘাত পাওয়ার পর নিউরনগুলো একই সঙ্গে ধকল সামলানো এবং ক্ষত সারানোর কাজ করতে গিয়ে চাপে পড়ে যায়। এএইচআর প্রোটিনটি তখন একটি ‘ব্রেক’ হিসেবে কাজ করে, যা নিউরনকে ক্ষত মেরামতের পরিবর্তে কেবল টিকে থাকার দিকে পরিচালিত করে।
পরীক্ষাগারে ইঁদুরের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, যখনই এই এএইচআর প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বা ওষুধ দিয়ে ব্লক করা হয়েছে, তখনই ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুগুলো সফলভাবে পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইঁদুরের নড়াচড়া ও স্পর্শানুভূতিতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই প্রোটিনটি আসলে স্নায়ুর কোষের বেঁচে থাকা এবং পুনর্গঠনের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। এএইচআর নিষ্ক্রিয় করলে কোষগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।
এর আগে এএইচআর প্রোটিনটি মূলত পরিবেশের বিষক্রিয়া শনাক্তকারী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে স্নায়ুর ক্ষেত্রে এর এই নতুন ভূমিকা বিজ্ঞানীদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, যেহেতু এএইচআরকে বাধা দিতে সক্ষম কিছু ওষুধ বর্তমানে অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে, তাই ভবিষ্যতে স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের ইনজুরির চিকিৎসায় এগুলো কার্যকর হতে পারে। তবে রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগের আগে আরও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।