যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রবিবার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। স্পেসএক্স ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে এই টেলিস্কোপটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনটিকে নাসার সাফল্যের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যেই এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয়েছে, যা মহাবিশ্বকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দেবে।
টেলিস্কোপটি বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় দশ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থিত এল২ (L2) কক্ষপথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিন মাস সময় লাগবে। মহাকাশে পৌঁছানোর পর এটি অন্ধকার পদার্থ (ডার্ক ম্যাটার), অন্ধকার শক্তি (ডার্ক এনার্জি) এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর রহস্য উন্মোচনে কাজ করবে।
নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স জানিয়েছেন, রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি একটি আবিষ্কারের যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে, যা মহাজাগতিক ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের গভীরতম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবে। এর প্রশস্ত দৃষ্টি এবং দ্রুত তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেলিস্কোপটি প্রতিদিন ১.৪ টেরাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে, যা নাসার যেকোনো অ্যাস্ট্রোফিজিক্স মিশনের জন্য সর্বোচ্চ। সংগৃহীত এই বিশাল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করা হবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত প্রথম ছবিগুলো প্রকাশ করা হবে।