পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ের রাজধানী বিসাউতে নতুন সংবিধান গ্রহণের জন্য আয়োজিত গণভোটের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল হোরতা ইনতা-এ না মান রোববার ভোটদানের পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাহী সচিব ইদ্রিসা জালো জানিয়েছেন, রোববার অনুষ্ঠিত এই ভোটে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং মঙ্গলবার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, গিনি-বিসাউয়ের সংসদীয় শাসনব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করার পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এর আগে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে ক্ষমতা ভাগাভাগির সমস্যা ছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই সংস্কার আনা হচ্ছে।
দশ মাস আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসকরা এই গণভোটের আয়োজন করল। তাদের ভাষ্যমতে, আগামী ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থিতিশীল করাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।
ট্রানজিশনাল প্রেসিডেন্ট জেনারেল হোরতা ইনতা-এ না মান জানান, এই গণভোটের মাধ্যমে আগামীতে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন কোনো বাধা ছাড়াই তার পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সনদ অনুযায়ী, জেনারেল ইনতা-এ না মান আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে গত বছর হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সৃষ্ট বিবাদের জের ধরে দেশটিতে অভ্যুত্থান ঘটেছিল।