চিলির সান্তিয়াগোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিডাদ ডি চিলির গবেষকরা জানিয়েছেন, জনপ্রিয় ক্যালরিহীন মিষ্টি উপাদান সুক্রালোজ ও স্টেভিয়া গ্রহণ করলে তা শরীরের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও বিপাক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ঘটাতে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক ড. ফ্রান্সিসকা কনচা সেলুমে জানিয়েছেন, এই উপাদানগুলোর নিয়মিত সেবন শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যা সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষক দলটি ৪৭টি ইঁদুরকে তিনটি আলাদা গ্রুপে ভাগ করে পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। প্রথম গ্রুপকে সাধারণ পানি, দ্বিতীয় গ্রুপকে সুক্রালোজ মেশানো পানি এবং তৃতীয় গ্রুপকে স্টেভিয়া মেশানো পানি দেওয়া হয়। এই মাত্রা ছিল মানুষের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে গ্রহণের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এরপর এই ইঁদুরগুলোর পরবর্তী দুই প্রজন্মকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাদের কোনো ধরনের মিষ্টি উপাদান দেওয়া হয়নি।
বিপাক ও অন্ত্রে প্রভাব
গবেষকরা দেখেছেন যে, মিষ্টি উপাদান গ্রহণকারী ইঁদুরগুলোর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠন পরিবর্তিত হয়েছে এবং উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছে, যা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে সুক্রালোজের প্রভাব দ্বিতীয় প্রজন্মেও দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দেখা গেছে।
জিনগত পরিবর্তন
গবেষণায় লিভার ও অন্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু জিনের কার্যকলাপে পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়েছে। সুক্রালোজ গ্রহণকারী ইঁদুরদের ক্ষেত্রে প্রদাহজনিত জিনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বিপাক সংক্রান্ত জিনের সক্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টিকে ছিল। স্টেভিয়ার ক্ষেত্রেও এই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও তা সুক্রালোজের তুলনায় কিছুটা দুর্বল ছিল এবং পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে খুব একটা স্থায়ী হয়নি।
গবেষকদের অভিমত
ড. কনচা সেলুমে সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল ইঁদুরের ওপর পরিচালিত গবেষণা, যা মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি একই ফলাফল নাও দিতে পারে। তবে এই ফলাফল জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য আতঙ্কিত হওয়া নয়, বরং খাদ্যতালিকায় কৃত্রিম মিষ্টির পরিমিত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করা।