রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে গমের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। যুদ্ধরত দুই দেশ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে একে অপরের শস্য টার্মিনালে হামলা জোরদার করায় খাদ্যপণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক জো গ্লবার জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে গমের অভাব নেই, বরং যুদ্ধের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের জন্য তা ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের পরিস্থিতি
গত এক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই কৃষ্ণসাগরে একে অপরের বন্দর ও শস্য সংরক্ষণাগারে হামলা বৃদ্ধি করেছে। ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জুলাই মাসে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অনেক জাহাজ ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে রপ্তানি মৌসুমেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক ও তামানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের শিপিং খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্ববাজারে গমের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত শিকাগো হুইট ফিউচার্সে শুক্রবার দাম তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
যুদ্ধের পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং অনাবৃষ্টির কারণে বিশ্বের প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খরার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গমের উৎপাদন ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কানাডার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইউরোপেও তীব্র দাবদাহের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অঞ্চলেও খরা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরবর্তী করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনকে যুদ্ধকালীন রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। বিকল্প পথে শস্য পরিবহন করা সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। জো গ্লবার মনে করেন, পুনরায় কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে বিশ্ববাজারে গমের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া ভারতসহ অন্যান্য গম উৎপাদনকারী দেশগুলোকে সংকটের সময়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।