ব্রাজিলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ এবং স্বল্প মাত্রার অ্যাসপিরিন সেবনের মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির গুরুতর রোগ পেরিওডোন্টাইটিস নিরাময় করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলাফল প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার প্রায় সমতুল্য। জার্নাল অফ পেরিওডোন্টোলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণার ফল বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ প্রতিরোধী ক্ষমতা মোকাবিলায় নতুন আশা জাগিয়েছে।
গবেষণায় ১০৯ জন পেরিওডোন্টাইটিস আক্রান্ত রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পেরিওডোন্টাইটিস হলো মাড়ির একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে দাঁতের চারপাশের টিস্যু ও হাড় নষ্ট করে ফেলে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও ডেন্টাল সার্জন নিদিয়া ক্রিস্টিনা কাস্ত্রো দোস সান্তোস জানিয়েছেন, এই রোগ নিরাময় করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
গবেষণা পদ্ধতি
অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে ভাগ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়। সব দলকেই স্কেলিং বা দাঁতের গোড়া পরিষ্কার করার সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি এক দল অ্যান্টিবায়োটিক, এক দল ওমেগা-৩ ও অ্যাসপিরিন, এক দল অ্যান্টিবায়োটিক ও ওমেগা-৩-এর সংমিশ্রণ এবং অন্য দলটি প্লাসিবো গ্রহণ করে। এক বছর পর দেখা যায়, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ৫৮ শতাংশ সুস্থতার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন, অন্যদিকে ওমেগা-৩ ও অ্যাসপিরিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫৭.৭ শতাংশ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াকে ওষুধ প্রতিরোধী করে তোলে, যা বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। গবেষকরা বলছেন, যেসব রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের জন্য এই চিকিৎসা একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। কারণ, ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহজনিত প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে টিস্যু মেরামতে সহায়তা করে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
যদিও গবেষণার ফল বেশ আশাব্যঞ্জক, তবুও গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে এখনই এই পদ্ধতি রুটিন মাফিক প্রয়োগ করা যাবে না। এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট রোগীদের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পেরিওডোন্টোলজির বিশেষজ্ঞ মাগদা ফেরেসের মতে, বৃহৎ পরিসরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, কোন রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।