যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে ট্রাফিক দূষণের প্রভাবে মস্তিষ্কের ওপর পড়া ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে চালানো এক গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষক নিকোলাস পেলেগ্রিনো, ডাগ ব্রুগ এবং মিশা এলিয়াসজিউয়ের নেতৃত্বাধীন এই গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়িতে মাত্র এক মাস HEPA (হাই এফিসিয়েন্সি পার্টিকুলেট এয়ার) এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করলে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার পটভূমি
সমারভিল শহরটি আই-৯৩ এবং রুট-২৮ নামক দুটি প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ট্রাফিক থেকে নির্গত বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি। গবেষকরা ৩০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী ১১৯ জন বাসিন্দার ওপর এই পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করে এক মাস তাদের বাসায় আসল HEPA পিউরিফায়ার এবং অন্য সময় কৃত্রিম ফিল্টার ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।
পরীক্ষার ফলাফল
প্রতি মাসের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, ৪০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা পিউরিফায়ার ব্যবহারের পর তাদের মানসিক নমনীয়তা এবং কার্যনির্বাহী ক্ষমতার পরীক্ষায় ১২ শতাংশ দ্রুত ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই উন্নতিটি নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে পাওয়া শারীরিক সুফলের মতোই ইতিবাচক।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্র বা হৃদরোগের পাশাপাশি আলঝেইমার ও পারকিনসন্সের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা দূষণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। গবেষকদের দাবি, সাধারণ এই যন্ত্রটি ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস রোধ করা সম্ভব হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষক দলটির পরবর্তী লক্ষ্য হলো পিউরিফায়ার ব্যবহারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাদা অংশ বা হোয়াইট ম্যাটার কীভাবে সুরক্ষিত থাকে তা যাচাই করা। এছাড়াও, দীর্ঘ সময় ধরে এই যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বয়স্কদের মস্তিষ্কের অবনমন পুরোপুরি থামানো সম্ভব কি না, তা নিয়েও তারা আরও বিস্তারিত গবেষণার পরিকল্পনা করেছেন।