জাপানের জনপ্রিয় গেমিং প্রতিষ্ঠান নিনটেনডোর অন্যতম বিতর্কিত কনসোল হিসেবে পরিচিত গেমকিউব। মাত্র ২১.৭৪ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বিক্রিত কনসোলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যদিও বর্তমানে অনেক গেমার একে নস্টালজিয়া হিসেবে দেখেন, কিন্তু বাজারে আসার সময় বিভিন্ন কৌশলগত ভুলের কারণে এটি বাণিজ্যিকভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। গেমকিউব কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা বিশ্লেষণ করেছেন প্রযুক্তি লেখক শেরি এল. স্মিথ।
কনসোলের বাহ্যিক গঠন ও কন্ট্রোলার
গেমকিউবের ডিজাইন ছিল বেশ ছোট এবং এতে বহন করার জন্য হ্যান্ডেল ছিল, যা তখনকার সময়ে বেশ ব্যতিক্রমী। তবে কনসোলটির অদ্ভুত গঠন এবং খেলনা সদৃশ রঙিন উপস্থিতি কিশোর ও তরুণ গেমারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া এর কন্ট্রোলারের বাটন লেআউট এবং আকার নিয়েও গেমারদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। কন্ট্রোলারের বাটনগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় অনেক গেম খেলা বেশ কঠিন ছিল এবং তাতে প্রয়োজনীয় অনেক বাটনও অনুপস্থিত ছিল।
ডিভিডি ফরম্যাটের অভাব
গেমকিউব ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ছিল ডিভিডি ফরম্যাটের পরিবর্তে নিজস্ব অপটিক্যাল ডিস্ক ব্যবহার করা। প্লে-স্টেশন ২ এবং এক্সবক্স ডিভিডি ব্যবহার করলেও নিনটেনডোর ডিস্কগুলোর ধারণক্ষমতা ছিল অনেক কম। ফলে গেমের ভিডিও এবং অডিও কোয়ালিটি অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের ছিল এবং বড় গেমগুলো অনেক সময় একাধিক ডিস্কের প্রয়োজন হতো। একই সাথে এটি মুভি দেখার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা যেত না, যা কনসোলটির আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছিল।
থার্ড-পার্টি গেমের অভাব
গেমকিউবে তৃতীয় পক্ষের ডেভেলপারদের তৈরি গেমের সংখ্যা ছিল বেশ কম। অনেক জনপ্রিয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান তাদের গেমগুলো এই কনসোলের জন্য তৈরি করতে আগ্রহী ছিল না। ফলে নিনটেনডোর নিজের তৈরি গেমের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তবে গেম রিলিজের ক্ষেত্রেও ছিল দীর্ঘসূত্রতা, যা গেমারদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।
অনলাইন সেবার সীমাবদ্ধতা
ইন্টারনেট যুগের শুরুতে থাকা সত্ত্বেও গেমকিউবে কোনো কার্যকর অনলাইন সেবা ছিল না। নিনটেনডোর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাতোরু ইওয়াতা জানিয়েছিলেন যে, ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রক্রিয়া জটিল এবং অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকরা পছন্দ করবে না। ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত নিনটেনডোর কোনো শক্তিশালী অনলাইন কানেকশন ব্যবস্থা ছিল না, যা সে সময়কার বাজারে কনসোলটিকে পিছিয়ে দেয়।
বর্তমান অবস্থা
সব ব্যর্থতা সত্ত্বেও গেমকিউব এখন গেমারদের কাছে একটি কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে রেট্রো গেমিং বাজারে এটি বেশ মূল্যবান এবং দুষ্প্রাপ্য একটি ডিভাইস হিসেবে গণ্য হয়। এর কন্ট্রোলার এবং গেম ডিজাইনের উদ্ভাবনী দিকগুলো এখন নতুন করে প্রশংসিত হচ্ছে।