যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাবিস্ফোরণের বা বিগ ব্যাং-এর মাত্র ১০ কোটি বছর পরেই পাথুরে গ্রহ গঠনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। মহাজাগতিক ইতিহাসের শুরুর দিকে গ্রহ গঠনের এই সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের পূর্বের ধারণার চেয়ে কয়েক বিলিয়ন বছর এগিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন, মহাবিশ্ব সৃষ্টির কয়েক বিলিয়ন বছর পর গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু নতুন এই গবেষণা বলছে, প্রথম গ্যালাক্সিগুলো পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার আগেই গ্রহ গঠনের অনুকূল অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুরুর দিকের অত্যন্ত বিশালকায় নক্ষত্রগুলোর জীবনাবসানের সময় ঘটে যাওয়া সহিংস বিস্ফোরণ বা ‘পপ থ্রি সুপারনোভা’ মহাকাশে কার্বন, অক্সিজেন ও আয়রনের মতো মৌলিক উপাদান ছড়িয়ে দেয়। এগুলোই পরবর্তী সময়ে গ্রহ ও প্রাণের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ইনস্টিটিউট অব কসমোলজি অ্যান্ড গ্রাভিটেশনের ড. ড্যানিয়েল হোয়্যালেন জানান, তাদের কম্পিউটারের সিমুলেশনে দেখা গেছে, সূর্যের ভরের ৭০ শতাংশ সমান একটি নক্ষত্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান চাকতি বা ডিস্ক থেকে গ্রহের প্রয়োজনীয় উপাদান জমা হয়েছে। সেই চাকতিতে প্রচুর পরিমাণে পানির উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
ড. ড্যানিয়েল হোয়্যালেন আরও বলেন, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছর। সেই তুলনায় মাত্র ১০ কোটি বছর পর এমন উপাদান তৈরি হওয়া মহাজাগতিক ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়ে অনেক আগেই মহাবিশ্বে প্রাণের আবাসযোগ্য জগতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
এই গবেষণার ফলাফল দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত হয়েছে।