নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, বাড়ছে লাশের সংখ্যা

September 2, 2026

নেপালের নুয়াকোট ও রাসওয়া জেলায় নেপাল-তিব্বত সীমান্ত বরাবর ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে দেশটির সরকার ও জাতিসংঘ। হিমালয়ের উপত্যকায় গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসের ফলে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়, যা হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বিচ্ছিন্ন শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলনের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,২০০ জন নিহত এবং ৪,২০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে। অপরদিকে তিব্বত অংশে সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারেও নিরলস চেষ্টা চলছে।

বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় নেপালে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকার ১৫টি দুর্গত এলাকায় তিন মাসের জন্য দুর্যোগ ঘোষণা করেছে।

বন্যার ফলে নেপালে প্রায় ৩,৫০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমানে স্কুলসহ ২৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে থাকছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) সতর্ক করেছে যে, দূষিত পানি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রায় ৪০টি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, বনাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের সুরক্ষা ও চিকিৎসার দিকে এখন বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বন্যার পূর্বাভাস না পাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, এটি একটি অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ ছিল। তবে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন ঝুঁকি যে বাড়ছে, তা তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার কথা বলেছেন। চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞরাও দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী সেতু নির্মাণ ও ড্রোন ব্যবহার করে উদ্ধার কাজে সহায়তা করছেন।

Leave a Comment