জার্মানির লিপজিগে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটো রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট এই ঘটনার পর রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন, লিপজিগের এই ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাটিতে রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততায় নতুন একটি উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। গত মাসে জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমান লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার ব্যর্থ চেষ্টার পেছনে রাশিয়া জড়িত ছিল বলে জার্মান সরকার নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত
জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ড্রোনটির গঠন এবং ব্যবহৃত বিস্ফোরক রাশিয়ার অন্যান্য হাইব্রিড অপারেশনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এই ঘটনায় দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন বেলারুশিয়ান নাগরিক, যার কাছে রাশিয়ার পাসপোর্ট রয়েছে। অন্যজন লাটভিয়া ও রাশিয়ার পাসপোর্টধারী।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া জার্মানির এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বার্লিনকে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে মস্কো। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো জানিয়েছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা চাপ অব্যাহত থাকলে তারা জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ভাবছে।
জার্মানির পদক্ষেপ
এই ঘটনার জেরে জার্মানি বন শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনসুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বার্লিনে অবস্থিত ‘রাশিয়ান হাউস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা ক্রেমলিনের প্রপাগান্ডা মেশিন হিসেবে কাজ করে বলে ধারণা করা হয়।
অন্যান্য নাশকতার ঘটনা
জার্মানি ও পোল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশ কিছু নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। জার্মানির কোলনের কাছে বিদ্যুতের সাবস্টেশনে হামলা এবং পোল্যান্ডে ড্রোন তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডকে নাশকতার অংশ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। ইইউ এবং ন্যাটো নেতারা একমত হয়েছেন যে, রাশিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক কোনো মূল্য নেই, তাই তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ আরও জোরদার করা হবে।