ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ৩.৪৯ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের মাধ্যমে সর্বকালের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফুটবল ট্রান্সফারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল জগতে শীর্ষ ইংলিশ ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর বিশাল সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হলো।
লিগের দলবদলের শেষ দিনে ইলিমান এনডিয়ায়ে এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দেওয়ার পরপরই গত বছরের ৩.১৪ বিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড ভেঙে যায়। এরপর চেলসি থেকে এনজো ফার্নান্দেজ ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখান। শেষ দিনে ক্লাবগুলো মোট ৫০৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে দামি চুক্তির তালিকার শীর্ষ পাঁচের চারটিই প্রিমিয়ার লিগের। এর মধ্যে এনজো ফার্নান্দেজকে পেতে ম্যানচেস্টার সিটির খরচ হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া লিভারপুল ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলাকে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাথমিক চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে, যা ১২৩ মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়তে পারে। টটেনহ্যাম তাদের ক্লাব ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে স্যান্ড্রো টোনালিকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টেনেছে।
ম্যানচেস্টার সিটি এই উইন্ডোতে মোট ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। যদিও ক্লাবটি খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমে ৩০৪ মিলিয়ন পাউন্ড আয়ও করেছে। তালিকায় এরপরই রয়েছে চেলসি, যারা ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে ওঠা ইপসুইচ টাউন ১৭১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে, যা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খরচের চেয়েও বেশি।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১১টিই তাদের নিজস্ব দলবদলের রেকর্ড ভেঙেছে। খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ চুক্তি হয়েছে লিগের অভ্যন্তরীণ ক্লাবগুলোর মধ্যে। ইউরোপের অন্যান্য লিগের তুলনায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর এই বিশাল ব্যয় তাদের অর্থনৈতিক আধিপত্যের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।