ভারতীয় মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনস হত্যার দায় স্বীকারকারীর মুক্তি নিয়ে শঙ্কা

September 2, 2026

ভারতের ওডিশার কেওনঝড় জেলায় ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান খ্রিস্টান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনস এবং তাঁর দুই নাবালক পুত্রকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে দণ্ডিত দারা সিংয়ের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২২ জানুয়ারি স্থানীয় এক জনসভায় যোগ দেওয়ার পর নিজের জিপের ভেতরে থাকা অবস্থায় দারা সিং ও তাঁর সহযোগীদের আক্রমণে প্রাণ হারান স্টেইনস ও তাঁর ১০ ও ৬ বছর বয়সী দুই সন্তান। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে দারা সিং এখন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার পটভূমি
গ্রাহাম স্টেইনস দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওডিশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় কুষ্ঠ রোগীদের সেবায় কাজ করছিলেন। অভিযুক্ত দারা সিংয়ের দাবি ছিল, স্টেইনস আদিবাসী ও নিম্নবর্গের হিন্দুদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করছিলেন। ঘটনার এক বছর পর গ্রেফতার হওয়া দারা সিং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। শুরুতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর এই সাজা বহাল রাখে।

অন্যান্য অপরাধ
দারা সিং শুধু স্টেইনস পরিবারের হত্যাকাণ্ডে নয়, আরও দুটি জঘন্য অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। ২০০৭ সালে তিনি ক্যাথলিক যাজক আরুল দাসকে তীর মেরে হত্যা এবং এক মুসলিম বস্ত্র ব্যবসায়ী শেখ রহমানকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়া মুসলিম ব্যবসায়ীদের গবাদি পশু পরিবহন সংক্রান্ত বিভিন্ন হামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান অবস্থা
গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর দারা সিং তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, যুবসুলভ আবেগ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তিনি ভুল করেছিলেন এবং এখন তিনি অনুতপ্ত। গত ১৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালে বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্নোইয়ের বেঞ্চ ওডিশা সরকারকে দারা সিংয়ের আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আদালত নিজেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া
দারা সিংয়ের মুক্তির খবরে ভারতের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও স্টেইনসের বিধবা স্ত্রী গ্লেডিস আগেই ক্ষমা প্রদর্শনের কথা জানিয়েছিলেন, তবে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, দারা সিংয়ের মতো ব্যক্তির মুক্তি ওডিশার সংবেদনশীল ধর্মীয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, অতীতে তাঁর বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে এই শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

Leave a Comment