থাইল্যান্ডের পাতায়ায় নোঙর করেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যেখানে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক দীর্ঘ ২৫০ দিন পর সমুদ্র থেকে তীরে নামার সুযোগ পেয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনী এবং থাইল্যান্ডের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে রওয়ানা দেওয়া এই রণতরীটি ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটানোয় নাবিকদের মানসিক চাপ, খাদ্য সংকট এবং জাহাজের বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, নাবিকদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ডকিংয়ের বিষয়ে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসার মোড় ঘোরানোর সুযোগ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই মার্কিন নাবিকদের আগমনকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে কাটানো নাবিকদের কাছে বড় অঙ্কের সঞ্চিত বেতন থাকায় তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের গহনা বিক্রেতা আনোন সাইতির জানান, মার্কিন নাবিকদের স্বাগত জানাতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধ
মার্কিন ও থাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে যে, নাবিকদের এই সফর যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সৃষ্টি না করে। থাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাতায়ার সই-৬ এলাকা, যা মূলত বিনোদন ও বারকেন্দ্রিক, সেখানে নাবিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া গাঁজার দোকান বা ঝুঁকিপূর্ণ জলক্রীড়ায় অংশগ্রহণ থেকেও তাদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানান, দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর আগে মার্কিন সেনাদের আনাগোনাই এই শহরকে বিশ্বজুড়ে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করেছিল। তবে এখন তারা পাতায়াকে শুধু বিনোদন নয়, বরং পরিবারবান্ধব ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চান। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রণতরীটি প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে।