ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লার কাছে আল-মুগাইর গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের হামলায় দুই কিশোর নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন ১৯ বছর বয়সী ওমর আল-নাসান এবং ১৬ বছর বয়সী খলিল আবু আলিয়া। গ্রামটির স্থানীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের গ্রামের গবাদি পশু চুরি করার সময় বাধা দিলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্যমতে, তাদের বাহিনী একজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও পুলিশকে গবাদি পশু উদ্ধারে সহায়তা করতে গ্রামে প্রবেশ করেছিল। বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনিরা সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করলে তারা ‘প্রধান উস্কানিদাতা’দের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে অন্তত ৮১ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ২৩টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার প্রেক্ষাপটে।
আল-মুগাইর গ্রামে এর আগেও একাধিকবার বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বসতি স্থাপনকারীরা বিভিন্ন বার্তায় ওই গ্রামের বাসিন্দাদের স্থানচ্যুত করার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি স্থাপন অবৈধ হলেও পশ্চিম তীরে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করছে।
এদিকে বুধবার পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় খিরবেত আল-তাব্বান গ্রামটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানিয়েছে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্রামটির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে বসতবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের একটি অংশ বলে সংস্থাটির দাবি।