কানাডার অটোয়াতে দেশটির তরুণ ক্যাডেটদের একটি ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবমাননাকর পোস্ট করার জেরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি জানিয়েছেন, হেগসেথের এই আচরণ তার পদের মর্যাদার পরিপন্থী। কানাডার সামরিক বাহিনীর ক্যাডেট প্রোগ্রামের এই ছবিটিকে কেন্দ্র করে করা এই মন্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য বিরোধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।
ঘটনাটি হলো, হেগসেথ তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে স্থানীয় একটি প্রশিক্ষণ শাখার ছবি শেয়ার করেন, যেখানে একজন প্রশিক্ষক একজন তরুণ ক্যাডেটকে পুরস্কার প্রদান করছেন। ছবির সঙ্গে তিনি একটি কানাডিয়ান পতাকার ইমোজি ও ‘দিস ইজ রিয়েল’ ক্যাপশন যুক্ত করেন, যা মূলত কানাডার সামরিক বাহিনীকে বিদ্রূপ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন মিম তৈরি ও বিদ্রূপ বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং সিরিয়াস আলোচনার পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
কানাডার আর্মি ক্যাডেট লিগ এক বিবৃতিতে এই পোস্টকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তরুণদের অর্জন নিয়ে অনলাইনে উপহাস করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এদিকে কানাডার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল জেনি ক্যারিনান জানিয়েছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাডেটদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পরামর্শ করছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রক্ষণশীল দলীয় সংসদ সদস্য এবং সাবেক সামরিক রিজার্ভিস্ট স্কট অ্যান্ডারসন সরাসরি হেগসেথকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনি আপনার পদের দায়িত্ব ও শালীনতা বিসর্জন দিয়ে দুজন কানাডিয়ান নারীকে জনসমক্ষে অপমান করেছেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
উল্লেখ্য, গত মাসেই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর থেকেই দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ ও একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছে। তবে এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। হেগসেথের এই পোস্টকে কেন্দ্র করে কানাডায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যারা এটিকে ‘বডি শেমিং’ বা শারীরিক গঠনের প্রতি বিদ্রূপ বলে মনে করছেন।