নরওয়ের অসলো শহরে অবস্থিত অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নতুন এক গবেষণায় জানিয়েছেন, অ্যালঝাইমার রোগ শুরুর অন্তত সাত বছর আগেই মস্তিষ্কের ভেতরে এর প্রাথমিক লক্ষণ বা পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব। নেচার নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি অ্যালঝাইমার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গবেষক দলের প্রধান জেমস মাইকেল রো জানিয়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যালঝাইমার শনাক্ত করতে অ্যামিলয়েড-পিইটি স্ক্যান ব্যবহার করা হয়। তবে এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্কে প্লাক বা প্রোটিনের স্তর জমলে তবেই তা ধরা পড়ে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাক জমার অনেক আগেই মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়, যা বর্তমান স্ক্যানিং পদ্ধতিতে ধরা পড়ে না।
গবেষণার পদ্ধতি
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত এমআরআই স্ক্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা এমন ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের গঠন পর্যালোচনা করেছেন, যাদের পরবর্তীতে অ্যালঝাইমার ধরা পড়েছিল। এর মাধ্যমে তারা দেখেছেন যে, প্লাক জমার অন্তত সাত বছর আগে থেকেই মস্তিষ্কের গঠনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দেয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্ডারস মার্টিন ফেল বলেন, এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্লাক সৃষ্টির অনেক আগে থেকেই মস্তিষ্কের পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব। এটি ভবিষ্যতে রোগটি শুরুর আগেই সচেতন হতে বা নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়তা করবে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষকরা মনে করছেন, অ্যালঝাইমার কেবল প্লাক জমার কারণে হয় না, বরং অন্য কোনো জৈবিক প্রক্রিয়ার ফলেও মস্তিষ্কে পরিবর্তন হতে পারে। যদি এই তত্ত্ব প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে প্লাক দূর করার বাইরেও অন্যান্য প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন হবে। তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।