কানাডার টরন্টোয় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রসহ ঝড়ে অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ এক্স বার্তায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার সকাল থেকেই শহরের জরুরি অপারেশন সেন্টার সক্রিয় করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে এই ঝড় শহরের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যা দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রো জানিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ায় ডন ভ্যালি পার্কওয়েসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে ইস্ট ইয়র্ক কমিউনিটির মাইকেল গ্যারন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টরন্টোর উত্তরে অবস্থিত ভন শহরে বন্যার পানিতে গাড়ি ডুবে যাওয়ার ছবিও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। টরন্টো ট্রানজিট কমিশন জানিয়েছে, বর্জ্য ও বন্যার পানির কারণে ব্যাহত হওয়া সাবওয়ে ও বাস সার্ভিস সচল করার কাজ চলছে।
ঝড়ের কবলে পড়ে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ধ্যার দিকে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। কানাডার আবহাওয়া অফিস গ্রেটার টরন্টো এলাকায় জারি করা অরেঞ্জ সতর্কতা প্রত্যাহার করলেও অন্টারিও প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র দাবদাহ ও বজ্রঝড়ের ইয়োলো অ্যালার্ট এখনো বহাল রয়েছে।