পৃথিবীতে বন সৃষ্টির আগেই বিচরণ করত কফি টেবিলের সমান বিচ্ছু

September 3, 2026

যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত দেড়শ বছরের পুরোনো জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাক-ঐতিহাসিক পৃথিবীতে কফি টেবিলের সমান আকৃতির এক বিশাল বিচ্ছু বিচরণ করত। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা ‘প্রি-আর্কটুরস গিগাস’ (Praearcturus gigas) নামের এই প্রাণীটি নিয়ে নতুন করে গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য উদঘাটন করেছেন।

গবেষকদের মতে, প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন বছর আগে প্রারম্ভিক ডেভোনিয়ান যুগে প্রাণীটি পৃথিবীতে বেঁচে ছিল। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় এক মিটার এবং পিন্সারের দৈর্ঘ্য ছিল ১৬ সেন্টিমিটারের বেশি। এটি পৃথিবীর আদিম পরিবেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিকারি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণার গুরুত্ব
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর ড. রিচার্ড জে. হাওয়ার্ড জানান, সাধারণত মানুষ মনে করে বিশালাকার পতঙ্গ বা আর্থ্রোপড বন সৃষ্টির যুগে বেশি ছিল। কিন্তু এই বিচ্ছুটি বন সৃষ্টির প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগেই পৃথিবীতে ছিল, যখন স্থলভাগে প্রাণীর অস্তিত্ব কেবল শুরু হচ্ছিল। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, আর্থ্রোপডদের দানবীয় আকার ধারণের ইতিহাস প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি পুরোনো।

জীবনযাত্রা ও পরিবেশ
গবেষকদের মতে, এই বিচ্ছুটির অস্তিত্ব থাকাটা কৌতুহলোদ্দীপক কারণ সেই সময়ে স্থলভাগের পরিবেশ বেশ ছোট প্রাণীদের জন্য উপযোগী ছিল। তাদের ধারণা, সেই সময়ে অন্যান্য বড় শিকারি প্রাণীর অভাব থাকায় এই বিচ্ছুটি একক আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছিল। এছাড়া জীবাশ্মের গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি পানি ও ডাঙা উভয় স্থানেই চলাফেরা করতে পারত। এর পেটের অংশে থাকা ফ্ল্যাপ আকৃতির গঠন আধুনিক লবস্টারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ফলাফল ও বিশ্লেষণ
১৮৭১ সালে প্রথম এই জীবাশ্মটি আবিষ্কৃত হলেও দীর্ঘ সময় একে কাঠের পোকার মতো ছোট আকৃতির কোনো প্রাণী হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্প্রতি গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি বিশালাকার বিচ্ছু। এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, উচ্চ অক্সিজেন বা বন সৃষ্টির পরিবেশ ছাড়াও কেবল পরিবেশগত সুযোগ ও প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই সে সময়ে প্রাণীটি এমন বিশাল আকার লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।

Leave a Comment