ইসরায়েলের নাকৌরা সীমান্ত দিয়ে মালেক গাজি নামের এক লেবানিজ বেসামরিক নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মাধ্যমে তাকে লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছয় মাস আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম বন্দি বিনিময়ের ঘটনা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আশির দশকে অপহৃত ও নিহত লেবানিজ ইহুদি নেতাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করতে বৈরুত সহায়তা করায় তারা এই বন্দিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। জেরার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই পাঁচ ব্যক্তি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য নন এবং তারা কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
মুক্তিপ্রাপ্ত মালেক গাজিকে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে অবস্থিত লেবানিজ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ সীমান্তের আইন আতা শহর থেকে ব্যায়াম করতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন গাজি। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা শুরু করার পর এটিই ইসরায়েলের হাতে আটক কোনো লেবানিজ নাগরিকের প্রথম মুক্তি।
এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি মার্কিন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লেবাননের সব বন্দিকে মুক্তি, নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণ এবং লেবানিজ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।
বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে কতজন লেবানিজ নাগরিক আটক রয়েছেন তার আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি লেবানন। তবে পরিবারগুলো এবং এ সংক্রান্ত একটি কমিটি জানিয়েছে, প্রায় ৩০ জনের বেশি লেবানিজ নাগরিক ইসরায়েলের হাতে বন্দি রয়েছেন।
যদিও জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবুও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির হালতা গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আল-মানসৌরি গ্রামে বাড়িঘর ধ্বংস এবং নাবাতিহ অঞ্চলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।