যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে একটি নতুন বিশ্বমানচিত্র গ্রহণের পক্ষে ভোট দিয়েছে সদস্য দেশগুলো। টোগো কর্তৃক প্রস্তাবিত এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনপুষ্ট এই রেজল্যুশনটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দিয়েছে, যার মধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য রয়েছে। তবে একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক না হলেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত মানচিত্রে এর প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ১৬তম শতাব্দীর মারকেটর মানচিত্র নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান আকৃতির দেখানো হয়, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। সমালোচকদের মতে, এই ত্রুটিপূর্ণ মানচিত্রের কারণে বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোর উন্নয়ন চাহিদা ও সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখা হয়।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ২০১৮ সালে মানচিত্র বিশেষজ্ঞরা ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ নামে একটি মানচিত্র তৈরি করেন, যেখানে মহাদেশগুলোর আয়তন সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসি জানান, একটি ন্যায়পরায়ণ বিশ্ব গড়তে হলে মানচিত্রও সঠিক হওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানচিত্র কোনো নিরপেক্ষ বিষয় নয়, এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা তৈরি করে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাদের মন্ত্রণালয় থেকে মারকেটর মানচিত্র ব্যবহারের রীতি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একে সত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ এই রেজল্যুশনের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে জাতিসংঘের কাজের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে ১৬শ শতাব্দীর মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করা অর্থহীন। তবে আফ্রিকা মহাদেশের নীতিনির্ধারক ও ভূগোলেবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আফ্রিকার সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিশ্ব দরবারে সঠিক উচ্চতায় তুলে ধরা সম্ভব হবে।