যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকে ‘দেশদ্রোহী আবর্জনা’ বা ‘treasonous scum’ বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে সামরিক সরঞ্জামের মজুত নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি যুদ্ধকালীন সময়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মধ্যকার বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বর্তমানে অভাবনীয় মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি মজুত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমগুলো সঠিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না এবং অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
পটভূমি
গত আগস্ট মাসেও ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসা সংক্রান্ত তথ্য যারা ফাঁস করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস (সিএসআইএস) এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া থ্যাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মজুত অর্ধেকে নেমেছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে এই মজুত পূরণ করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং প্রেস ফ্রিডম গ্রুপগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগ বাড়িয়েছেন। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের জন্য তিনি ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ ও তলব করার ঘটনাও বাড়ছে।